দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক কৃষি প্রকল্পে ফের বড়মাপের দুর্নীতির অভিযোগ উঠল উত্তর দিনাজপুরের (Uttar Dinajpur News) ইসলামপুর (Islampur) ব্লকে। প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চায়ী যোজনায় ৪ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন ওই ব্লকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক আধিকারিক। পাশাপাশি মৃত্যুজনিত কৃষক বন্ধু সহায়তা প্রকল্পেও বেনিয়মের অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় কৃষি প্রকল্পের অর্থ নয়ছয়ের প্রমাণপত্র সহ যাবতীয় নথি রায়গঞ্জে জেলা কৃষি দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ইসলামপুর মহকুমা কৃষি দপ্তরের ওই আধিকারিক শ্রীকান্ত সিনহার। তাঁকে ইতিমধ্যে ইসলামপুর মহকুমা থেকে মালদায় বদলি করা হয়েছে। ওই আধিকারিকের দাবি, ‘আমি সমস্ত নথি জেলায় জমা দিয়েছি। যা বলার বলবেন কৃষি দপ্তরের আধিকারিক।’


কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসলামপুর ব্লকে পিএমকেএসওয়াই প্রকল্পে ৩০ হাজার টাকা করে ভুয়ো নামে ১৬০০ জন কৃষককে দেখিয়ে পাইপ কেনা বাবদ ৪ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা একটি কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চায়ী যোজনা ২০১৫-২০১৬ সালে চালু করা হয়েছিল, যার লক্ষ্য সেচের অধীনে চাষযোগ্য এলাকা সম্প্রসারণ আর খামারে জল ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো। অর্থাৎ ১৬০০ কৃষক কোনও টাকাই পাননি। এমনটাই দাবি ওই আধিকারিকের।
মৃত্যুজনিত কৃষক বন্ধু সহায়তা প্রকল্পেও নানা বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রায়গঞ্জ ব্লকে ৪২ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ইসলামপুর ব্লকে ২০৯ জন কৃষকের মৃত্যু দেখানো হয়েছে। এতেই সন্দেহ তৈরি হয় জেলা কৃষি দপ্তরের কর্তাদের। শ্রীকান্ত সিনহা নামে ওই আধিকারিকের দাবি, মৃত্যুজনিত কৃষকবন্ধু প্রকল্পে ব্লকে ২০৯টি আবেদনের মধ্যে ১৯টি আবেদন ঠিকঠাক, বাকি সবটাই ভুয়ো। সেজন্য ২০২৪ সালের মার্চ মাসের পর সমস্ত বিল আটকে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলার শীর্ষ কৃষি অধিকর্তার নেতৃত্বে চার কৃষি আধিকারিক ইসলামপুর মহকুমা কৃষি আধিকারিককে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখেন। আসল তথ্য আড়াল করে মৃত কৃষকবন্ধু’র ভুয়ো তালিকা দেখিয়ে সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে ব্লক কৃষি দপ্তরের কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুর জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা প্রিয়নাথ দাস বলেন, ‘এই বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।’

