রবীন্দ্রনাথ ঘোষ
যা হল তা তো হওয়ারই ছিল!


১৯৯৮ সালে কোচবিহারে (Cooch Behar) আমার হাত ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম (TMC)। মমতাদিদিকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আমার স্কুটারে চাপিয়ে নানা প্রান্ত চষে চষে বেড়িয়েছি। কত সুখদুঃখের সাক্ষী থেকেছি। নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দলের রাজ্য নেতারা আমার ওপর নির্ভর করতেন। আর এখন? দলের কিছু তোলাবাজ নেতা আমাকে কার্যত ঘাড়ধাক্কা দিয়ে অসম্মান করল। বাবা–মা মারা যাওয়ার সময় খুব কেঁদেছিলাম। দল আমাকে প্রচণ্ড অসম্মান করার সময়ও ফের কেঁদে ভাসিয়েছি। পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে আমাকে সরানো হল। বিধানসভা ভোটের টিকিটটা পর্যন্ত দেওয়া হল না।
ভোটের এমন ফল হওয়ায় হয়তো অনেকে অবাক হবেন। আমি হইনি। আসলে এটা তো হওয়ারই কথা ছিল। ২০১৬ সাল পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই দলের রাশ থাকলেও তারপর থেকে সেই ক্ষমতা আর তাঁর ছিল না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও পরে আইপ্যাকের হাতে সমস্ত ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর থেকেই দলে তোলাবাজদের আমদানি শুরু। ঔদ্ধত্য, অহংকার, বেপরোয়া মানসিকতায় দল ভরে গেল। অন্য দল থেকে আসা তোলাবাজরা তৃণমূলের নাম ভাঙিয়ে খাওয়া শুরু করল। তাদের জন্যই আজ দলের এই হাল। কোচবিহারে দলের প্রকৃত কর্মীদের কোনও দামই নেই। যারা এখন নেতৃত্বে রয়েছে তারা বড় তোলাবাজ। যারা বেশি টাকা তুলে এনে দিতে পারবে তাদেরই দলের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। দল যদি উদয়ন গুহ, অভিজিৎ দে ভৌমিকদের ঝেঁটিয়ে বিদায় না করে তাহলে তৃণমূল আর কখনোই এখানে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। কোচবিহারে এর আগে তৃণমূলের অবস্থা কখনোই এতটা খারাপ হয়নি। ওদের আমলে আজ যতটা হল।
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে ওদেরই লোকজন কোচবিহারে তৃণমূলকে হারাতে কাজ করেছিল। তখন থেকে দলের ভিতরে যে ঘুণ ধরেছিল তা এখনও ঠিক হয়নি।
দলটিকে ওরা করেকম্মে খাওয়ার জায়গায় নিয়ে গিয়েছে। ২০২৪ সালে আমরা সবাই মিলে খেটে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রটি পুনরুদ্ধার করেছিলাম। তবে তারপর থেকেই কিন্তু ওদের অহংকারের প্রচণ্ড বাড়বাড়ন্ত। যাদের একটি বুথে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তাদের জেলার দায়িত্ব দিলে তো ভরাডুবি হবেই। ওরা আমাকে বারবার কোণঠাসা করে রাখার চক্রান্ত করেছিল। আজ তারই মাশুল দিতে হল। ওদের চক্রান্ত বুঝতে পেরেই ভোটের সময় আমি দল থেকে দূরে সরে এসেছিলাম। এখন বুঝতে পারছি সেটিই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। প্রকৃত তৃণমূল কর্মীদের পাশে আমি আগেও ছিলাম, এখনও আছি। আগামীতে আমার কী পরিকল্পনা হবে তা তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেই ঠিক করব। তবে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে আমার একটিই আবেদন, দলকে ঢাল করে যারা তোলাবাজি করছে তাদের কোনওমতেই ক্ষমা নয়।
অনুলিখন – শিবশংকর সূত্রধর

