মানিকচক: হোলির সন্ধ্যায় রক্তাক্ত মানিকচকের মথুরাপুর (Manikchak)। মদ্যপ অবস্থায় বচসা, আর তার জেরেই চলল এলোপাতাড়ি গুলি (Holi violence)। অভিযোগ, বচসার জেরে স্থানীয় এক র্যাশন ডিলারের ছেলে গুলি চালালে তাতে এক শিশু সহ তিনজন জখম হন। এই ঘটনায় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে (Lynched) মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্ত কিশোরের বাবার।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সন্ধ্যায় মদ্যপ অবস্থায় স্থানীয় রজক পাড়ার কয়েকজন তরুণের সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় বচসায় জড়িয়ে পড়ে র্যাশন ডিলার সমীর দাশগুপ্তর ছেলে সময় দাশগুপ্ত (১৭)। অভিযোগ, বচসা চলাকালীন অভিযুক্ত সময় কয়েকজন তরুণকে মারধর করে সেখান থেকে বাইক নিয়ে চম্পট দেয়। এরপর সময়ের পিছু ধাওয়া করে তার বাড়ি পর্যন্ত আসে ওই তরুণ ও তাঁর পরিবারের লোকজন। তারপরই অভিযুক্তর বাড়ির সামনে শুরু হয় বচসা। অভিযোগ, বচসা চলাকালীন সময় তার বাবার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক বের করে এনে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চলে বলে অভিযোগ। আর সেই গুলির আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে সম্রাট রজক (৯), ঘিশু রজক (৪৫) এবং অরুণ মন্ডল (৫০)। উল্লেখ্য, অরুণ মন্ডল সমীরবাবুরই র্যাশন দোকানের কর্মচারী বলে জানা গিয়েছে।
এরপর স্থানীয়রাই আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসক আহতদের দ্রুত মালদা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করেন। বর্তমানে শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
এদিকে, গুলি চালানোর খবর চাউর হতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হয়। শুরু হয় ব্যাপক ভাঙচুর। অভিযোগ, সেই সময় অভিযুক্তের বাবা তথা র্যাশন ডিলার সমীর দাশগুপ্তকে হাতের কাছে পেয়ে বেধড়ক মারধর করে উত্তেজিত জনতা। খবর পেয়ে মানিকচক থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং সমীরবাবুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা জানান, পথেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত সময় পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের এক আত্মীয় সহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

