বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: ঋতু পরিবর্তনের খামখেয়ালিপনায় ঘরে ঘরে থাবা বসাচ্ছে জ্বর, সর্দি ও কাশি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরেই ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীদের ভিড় নজরকাড়া (Mainaguri)।
আমগুড়ি থেকে টোটোয় চেপে হাসপাতালে এসেছিলেন বিউটি রায়। সঙ্গে তাঁর ১১ মাস বয়সি ছেলে বিভান। বিউটি জানান, কয়েকদিন ধরেই তাঁর ছেলে প্রবল জ্বরে ভুগছে। স্থানীয় চিকিৎসকের ওষুধে কাজ না হওয়ায় শেষমেশ হাসপাতালে আসতে বাধ্য হয়েছেন। একই ছবি শহিদগড়পাড়ার নকসতা বেগমের ক্ষেত্রেও। তাঁর দুই বছরের ছেলে মহম্মদ সাহিরও গত তিনদিন ধরে সর্দিকাশিতে আক্রান্ত। নকসতার কথায়, ‘কিছুতেই জ্বর কমছে না। তাই ঝুঁকি না নিয়ে ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে এলাম।’
শুধু শিশুরাই নয়, বড়দের অবস্থাও তথৈবচ। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নৃপেন দাস বা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পরেশ দাসের মতো অনেকেই গলা খুশখুশ ও হালকা জ্বরের সমস্যায় ভুগছেন। পরেশের আক্ষেপ, ‘বাড়ির সকলেরই এক এক করে জ্বর হয়ে গেল। এখন আমার পালা। খাবারে কোনও স্বাদ নেই। শরীর ভীষণ দুর্বল লাগছে।’
হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রতিদিন ওপিডিতে গড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন রোগী আসছেন। গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন রোগী স্রেফ ভাইরাল ফিভার নিয়ে হাজির হচ্ছেন। ময়নাগুড়ি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সীতেশ বর বলেন, ‘এটি প্রধানত ঋতু পরিবর্তনের সময়। রাতে ঠান্ডা আর দিনে গরম থাকার ফলেই এই ভাইরাল ফিভার ছড়াচ্ছে। এতে ভয়ের কিছু নেই। তবে ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও মাস্ক ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।’
চিকিৎসকদের মতে, গত সেপ্টেম্বর মাসের পর ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় চারদিকে ধুলোর পরিমাণ বেড়েছে। রাতে অনেকেই পাখা ব্যবহার করছেন, যা ভোরের দিকে ঠান্ডা লাগার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চিকিৎসক নারায়ণচন্দ্র দাসের পরামর্শ, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। আপাতত কাউকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার প্রয়োজন না হলেও, সতর্কতা অবলম্বনই সুস্থ থাকার একমাত্র পথ।

