জটেশ্বর: ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া বা ‘ডিলিটেড’ তালিকা নিয়ে ক্ষোভের আগুন এবার ফালাকাটায় (Deletion Protest Jateswar)। বুধবার দুপুর নাগাদ গুয়াবরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মালসাগাও ১৬৩ নম্বর বুথের কয়েকশো বাসিন্দা জটেশ্বর-খগেনহাট সড়ক অবরোধের উদ্দেশ্যে জড়ো হন। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ভোট দেওয়ার পরও এবার কোনও কারণ ছাড়াই তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে আন্দোলনে নামার মুখেই জটেশ্বর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আন্দোলনকারী জুয়েল ইসলাম ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমাদের তিনকূল এখানে বসবাস করছে। স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে জমির সমস্ত বৈধ তথ্য রয়েছে। তারপরেও ১৬৩ নম্বর পার্টে ১০০ জনেরও বেশি মানুষের নাম বাতিল করা হয়েছে। কেন এই অবিচার?” একই সুর সানজিয়ারা বেগমের গলায়। তাঁর পরিবারের সবার নাম থাকলেও রহস্যজনকভাবে তাঁর নাম বাদ পড়েছে। গ্রামবাসীর দাবি, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার পর এলাকাটিতে প্রায় দেড়শো মানুষের নাম ডিলিটেড তালিকায় চলে গিয়েছে।
রাস্তা অবরোধ হওয়ার খবর পেয়েই জটেশ্বর ফাঁড়ির ওসি জগদীশ রায়ের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন আধিকারিকরা। পুলিশি আশ্বাসের পর গ্রামবাসী সাময়িকভাবে ফিরে গেলেও তাঁদের চোখেমুখে ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ। ওসি জগদীশ রায় জানান, “আন্দোলন শুরুর আগেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের বুঝিয়ে ফেরত পাঠিয়েছি। স্থানীয়দের দাবি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”
এদিনের এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের অভিযোগও তুলছেন স্থানীয়দের একাংশ। আফিজুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের এলাকার শতাধিক মানুষের নাম কাটা গেল, অথচ সীমান্ত পেরিয়ে আসা অনেকের নামই বহাল রয়েছে। দ্রুত সংশোধন করে নাম না তোলা হলে আমরা আরও বড় আন্দোলনে নামব।”
নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে দিলেও, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ যাওয়া এবং তাঁদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াই আগামী দিনে ফালাকাটার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

