কোচবিহার: নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী চল্লিশ শতাংশ বা তার বেশি দৃষ্টিহীনদের ভোটের ডিউটি দেওয়ার কোনও নিয়ম নেই। অথচ সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভোটের ডিউটির জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে দুজন দৃষ্টিহীন শিক্ষককে। কোচবিহার জেলা প্রশাসনের এহেন কার্যকলাপে যথেষ্ট বিব্রত তাঁরা। চিঠি পেয়ে একজনকে রীতিমতো বাধ্য করা হয়েছে ভোটের প্রশিক্ষণ নিতে।
সোনারি পঞ্চম পরিকল্পনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রিনা রায়ের কাছে গত ৩০ তারিখ ভোটের ডিউটির জন্য চিঠি আসে। তিনি বলেন, ‘চিঠি আসার পরই আমি ৩১ তারিখ জেলা শাসকের দপ্তরে আমার বিশেষভাবে সক্ষম শংসাপত্র সহ সমস্ত কাগজপত্র জমা দিই। সেখানে আমাকে বলা হয় পরের দিন ট্রেনিংয়ে যেতে হবে না হলে আমাকে শোকজ করা হবে।’ বাধ্য হয়েই তাঁকে ১ তারিখ রামভোলা হাইস্কুলে ভোটের ডিউটির ট্রেনিংয়ে যেতে হয়েছিল। কিন্তু তারপরও তাঁকে বলা হয়েছে যদি আরেকবার চিঠি আসে তখন পরেরবার ট্রেনিং-এ যেতে হতে পারে। এই অবস্থায় তিনি খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন। সোমবার তুফানগঞ্জ ঘোগারকুঠি হাইস্কুলের অপর শিক্ষক বিপদতারণ দাসের কাছে ভোটের ডিউটির চিঠি আসায় তিনি জেলা শাসকের দপ্তরে গিয়ে সমস্ত কাগজপত্র জমা দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এভাবে কেন হয়রানি করা হচ্ছে বুঝতে পারছি না।’ এই ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা শাসক (উন্নয়নকে) ফোন করা হলে তিনি ফোন না তোলায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

