দিনহাটা: পরিস্রুত পানীয় জল পেতে পুরবাসীকে চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করতে হবে আরও তিন সপ্তাহ। অন্তত জলসমস্যা সমাধানে দিনহাটা পুরসভা, এমইডি ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই জানালেন দিনহাটা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সাবির সাহা চৌধুরী। যে কারণে বুধবারেও জলশূন্য থাকল পুরসভার একাধিক ওয়ার্ড। স্বাভাবিকভাবেই শহরবাসীর প্রশ্ন, এভাবে চলতে থাকলে পানীয় জল কবে পাব? এক্ষেত্রে অবশ্য ভাইস চেয়ারম্যান জলের কাজ করতে থাকা এজেন্সিগুলির কোর্টেই বল ঠেলেছেন। তিনি বলেন, ‘জলসমস্যা একটা বড় সমস্যা তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আলোচনা হয়েছে। সেখানে আমরা সময় বেঁধে দিয়েছি। যাতে দ্রুত যে সমস্ত এলাকায় আগে জল সরবরাহ হত সেখানে অন্তত পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করা যায় সেবিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে। শহরবাসীকে পরিস্রুত পানীয় জল পেতে গেলে তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।’
গত বছর দিনহাটা পুরসভা এলাকায় অাম্রুত ২.০ প্রকল্পের আওতায় শহরজুড়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানোর পাশাপাশি চারটি পাম্পহাউস ও দুটি নতুন জলাধার তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই কাজ মার্চ মাসের মধ্যেই শেষ করার সময়সীমা দেওয়া ছিল। কিন্তু মাঝে কাজ বন্ধ ছিল, তাছাড়া ধীরগতিতে হওয়ায় সেই কাজ শেষ হতে এখনও বছরখানেক সময় লাগবে বলে পুরসভা সূত্রে খবর। স্বাভাবিকভাবেই এটা পরিষ্কার, নতুন প্রকল্পের পরিষেবা পেতে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে শহরবাসীকে। তবে পুরোনো পাইপলাইনের মাধ্যমে যাতে জল সরবরাহকে আগের মতো করা যায় তা নিয়ে দিনহাটা পুরসভার চেয়ারপার্সন অপর্ণা দে নন্দীর ঘরে এদিন একটি বৈঠক হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের দুই অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ও এমইডির আধিকারিকরা ও পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলাররা। মূলত এদিন পুরসভার পক্ষ থেকে যেমন এমইডিকে দ্রুত কাজ শেষ করার কথা জানানো হয়। তেমনি জনস্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের বলা হয় যাতে পুরোনো পাইপলাইনে জল সরবারহের কাজ দ্রুত শেষ করেন। উল্লেখ্য, গত চারদিন থেকে দিনহাটা পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডে জল সরবরাহে সমস্যা দেখা গিয়েছে। কোথাও ঘোলা জল তো কোথাও জলের গতি নেই। এদিন নতুন করে বেশ কিছু ওয়ার্ডে জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আর তাতেই দুর্ভোগ আরও বেড়েছে পুর বাসিন্দাদের।
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর সূত্রে খবর, নতুন পাইপলাইনের কাজ করতে গিয়ে বেশ কিছু জায়গায় পাইপলাইন ফেটে গিয়েছে, এরফলে জল সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। তেমনি দিনহাটা পুরসভার দুটি ফিল্টার বিকল হয়ে পড়েছে, এরফলে পানীয় জল আয়রন পৃথকীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এই মুহূর্তে পুরসভার পানীয় জল সরবরাহ আরও বেশি জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (কোচবিহার হেডকোয়ার্টার) নিত্যহরি বসু বলেন, ‘বৈঠকে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্রুত জল সরবরাহে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।’ যদিও এর আগেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও পুরসভার জলকষ্ট একইরকম থেকে যায়।
এদিকে, এদিনও জল না পাওয়ায় শহরবাসীর মনে ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। শহরের বাসিন্দা বৈশালী কারক বলেন, ‘জল একেবারেই আসছে না, এরফলে পানীয় জল কিনে খেতে হচ্ছে।’ আরেক বাসিন্দা প্রিয়া সাহার কথায় পুরসভার সরবরাহ পানীয় জলই অন্যতম ভরসা, কিন্তু এখন যেভাবে মাঝে মাঝেই জলসমস্যা দেখা দিচ্ছে তাতে কেনা জলেই ভরসা করতে হবে এখন থেকে।’

