জলপাইগুড়িঃ কিছুদিন আগে হয়ে গেল জলপাইগুড়ির ‘সৃজনীধারা’ পত্রিকা গোষ্ঠীর বর্ষা উৎসব। স্টুডেন্টস হেলথ হোমের সভাকক্ষে। নেপথ্যে আবহ সংগীতে কখনও মেঘের গর্জন, কখনও বৃষ্টির রিমঝিম সুর। এরই মাঝে সমবেত কণ্ঠে শুরু হয় সূচনা সংগীত, ‘হৃদয় আমার নাচেরে আজিকে ময়ূরের মতো নাচে রে।’ তবলার চড়া বোল আর গানের দ্রুত তাল মিলে যেন যথার্থই বর্ষা আবাহন। কিছু কথা, কিছু গান পর্বে শান্তিনিকেতনে প্রথম বর্ষামঙ্গল বা বর্ষা উৎসব সূচনার নেপথ্য কাহিনী শোনান পত্রিকা গোষ্ঠীর সম্পাদক পার্থপ্রতিম মল্লিক। প্রথম পর্বে যার নামকরণ ছিল ‘ঋতু উৎসব – বর্ষামঙ্গল’।
আলোচনার দ্বিতীয় ভাগে ছিল ‘রবীন্দ্র গানে বর্ষা’ প্রসঙ্গ। এক অনবদ্য পর্যালোচনা অনায়াসে সবার মন ছঁুয়ে যায়। নৃত্যশিল্পী শিবম ঘোষ ‘বজ্রমানিক দিয়ে গাঁথা, আষাঢ় তোমার মালা’ গানটিতে দুর্দান্ত নৃত্য রূপারোপ করেন। একক সংগীত নিবেদন করেন মৈত্রেয়ী মুখার্জি, ডালিয়া চৌধুরী, মণিকা সরকার প্রমুখ। শিশুশিল্পী আরণ্যক সরকারকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ‘আষাঢ় ’ কবিতাটি আবৃত্তি করতে শোনা গেল। শ্রাবণ শুধু অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরায় না, কবির বিদায়কালের প্রহরও গোনায়। ‘শ্রাবণ হয়ে এলে ফিরে’–কবি গৌতম গুহরায় তাঁর ভাষ্যে শোনান শ্রাবণের বিষণ্ণ রূপ। পরিশেষে ছিল নৃত্য আলেখ্য ‘আজি ভরা বাদরে’। অংশগ্রহণ করেন পিংকি সরকার, ঐন্দ্রিলা দত্ত, রুপসা দত্তরায়, পূজা সরকার, তৃষা বল, অঙ্কিতা সরকার, জ্যাস্মিতা পাসোয়ান, আর্তি সরকার, দীপশিখা মুখার্জি, অনন্যা ঘোষ, আরাত্রিকা ঘোষ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সাগরিকা দাশগুপ্ত। সমগ্র অনুষ্ঠানের নিপুণ পরিকল্পনা ও পরিচালনার জন্য পার্থপ্রতিমের প্রচুর প্রশংসা প্রাপ্য।



