উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন (WB Budget Session 2026) হয়ে উঠল উত্তপ্ত। একদিকে রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোসের ভাষণ ঘিরে বিজেপি বিধায়কদের ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান ও হট্টগোল, অন্যদিকে অনুপ্রবেশ এবং ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বাগযুদ্ধ— সব মিলিয়ে উত্তাল হয়ে উঠল বিধানসভার কক্ষ।
রাজ্যপালের ভাষণ ও বিজেপির অবস্থান
এদিন রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে রাজ্যের কৃষি ও পরিকাঠামো উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ধান ও পাট উৎপাদনে বাংলা দেশের শীর্ষে এবং সেচ পরিসর বৃদ্ধিতেও উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে। বিশেষ করে ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিলে সম্পন্ন করবে বলে তিনি জানান। ভাষণ শেষে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য ছিল ইঙ্গিতপূর্ণ, “রাজ্যের তৈরি করে দেওয়া মিথ্যা ভাষণ পড়েননি রাজ্যপাল।” স্পিকার এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত আলোচনা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন বলে অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন বিরোধী দলনেতা।
অনুপ্রবেশ ও কাঁটাতার নিয়ে বাগযুদ্ধ
বিধানসভার ভেতরে অনুপ্রবেশ ইস্যু তুলে আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, “অনুপ্রবেশের ফলে জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জমি দিচ্ছে না রাজ্য সরকার।” পাল্টা জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি আক্রমণ করেন কেন্দ্রকে। তিনি বলেন, “আগে বিএসএফ-কে যে জমি দেওয়া হয়েছে, সেখানে কাজ শেষ হয়েছে কি? বাইরে থেকে কেউ এলে রেল বা বন্দর কর্তৃপক্ষ কেন রাজ্যকে তথ্য দিচ্ছে না?” বিধানসভায় শুভেন্দুকে বিঁধে মমতা বলেন, “জাতীয় গ্রন্থাগারে পেগাসাস লাগিয়েছেন অনুপ্রবেশের কথা বলছেন? একটা রোহিঙ্গা খুঁজে পেয়েছেন? ২০২৪ সালে এই ভোটার লিস্টে ভোট হয়েছে। তা হলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলুন। “
উন্নয়ন ও বঞ্চনার খতিয়ান
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলার টাকা আটকে রাখা হয়েছে, তা সত্ত্বেও ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার কিমি রাস্তা তৈরির দাবিও করেন তিনি। রাজভবনের চা-চক্রে যোগ না দেওয়া প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতির চাপে তিনি অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

