উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: প্রাথমিকে (WB Primary TET Exam) ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বুধবার সিঙ্গল বেঞ্চের চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ করে দিল বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, দুর্নীতির তদন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে দুর্নীতি হয়েছে বলে সবার চাকরি বাতিল করা যায় না। দীর্ঘ ৯ বছর পর চাকরি বাতিল হলে বিরূপ প্রভাব পড়বে, সমস্যায় পড়বেন শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারের লোকেরা। এদিন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায় খারিজ করে দেওয়া হল। চাকরি বহাল থাকায় স্বস্তিতে শিক্ষকরা।
২০২৩ সালের ১২ মে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বেনিয়মের অভিযোগে একসঙ্গে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করে দেন। বিচারপতি নির্দেশ দেন, চাকরি বাতিল হলেও শিক্ষকরা স্কুলে যাবেন। তবে নতুন করে ফের তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ শুরু করতে হবে।
সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। তৎকালীন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের চাকরি বাতিল সংক্রান্ত রায়ের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। তবে একই সঙ্গে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ মতো নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ বহাল রাখা হয়। এরপর সিঙ্গল বেঞ্চ ও ডিভিশন বেঞ্চের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও রাজ্য সরকার। চাকরিহারাদের একাংশও সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান। তারা জানান, সিঙ্গল বেঞ্চ তাদের বক্তব্য না শুনেই রায় দিয়েছে। এরপর সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) সব পক্ষের বক্তব্য শোনার নির্দেশ দিয়ে এই মামলা ফের হাইকোর্টে ফেরত পাঠায়। এর পরে মামলা যায় বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে। ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি শেষ হলেও রায় স্থগিত রেখেছিল হাইকোর্ট। এদিন সেই মামলারই রায় দিল ডিভিশন বেঞ্চ।
সম্প্রতি এসএসসি (SSC) মামলার রায়দান সামনে এসেছে। নিয়োগ দুর্নীতির ওই মামলায় পুরো প্যানেল বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিস্তর জলঘোলা হলেও সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশ বহাল রাখে। ফলে এদিনের রায় নিয়েও যথেষ্ট চাপের মধ্যে ছিলেন প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষক। তবে আদালতের রায় ঘোষণার পর স্বস্তিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা।

