উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ওজন কমাতে ডায়েটে দারুচিনি রাখা অত্যন্ত কার্যকর। এটি শুধু বিপাকের হার (Metabolism) বাড়ায় না, বরং হজমশক্তি উন্নত করতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ত্বক ভালো রাখে ও শরীরকে বিষমুক্ত (Detox) করে। অনেকেই মেদ ঝরাতে সকালে দারুচিনি-জল খান। তবে সঠিক নিয়ম না মানলে এর পুষ্টিগুণ শরীরে পৌঁছোয় না (Weight Loss Tips)। চটজলদি ফল পেতে এটি খাওয়ার সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি:
অতিরিক্ত তাপ বর্জন


দারুচিনি খুব বেশি ফুটিয়ে রান্না করলে বা চা বানালে এর গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই ঈষদুষ্ণ জলে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে সেই জল পান করাই সবচেয়ে উপকারী। রান্নার ক্ষেত্রেও একেবারে শেষের দিকে এটি মেশানো উচিত।
সঠিক মাত্রা ও সময়
দিনে ১-২ চা চামচের বেশি দারুচিনি খাওয়া উচিত নয়। খাবার খাওয়ার অন্তত আধ ঘণ্টা আগে এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে টানা এক মাস খাওয়ার পর কয়েক দিনের বিরতি নেওয়া প্রয়োজন।
সঠিক প্রজাতি নির্বাচন
বাজারে মূলত ‘সেলন’ ও ‘কাসিয়া’—এই দুই ধরনের দারুচিনি পাওয়া যায়। কাসিয়া দারুচিনির স্বাদ ঝাল এবং এতে ‘কমারিন’ নামক যৌগের মাত্রা বেশি থাকে, যা লিভারের ক্ষতি করতে পারে। তাই স্বাস্থ্যের খাতিরে হালকা বাদামি রঙের মিষ্টি স্বাদের ‘সেলন’ দারুচিনি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
ওষুধের সঙ্গে সতর্কতা
থাইরয়েড, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগের ওষুধ চললে এই পানীয় শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, গরমকালে নিয়মিত দারুচিনি খেলে শরীর অতিরিক্ত গরম হতে পারে, তাই ঋতুভেদে সাবধানতা জরুরি।
গুঁড়ো নয়, গোটা কিনুন
বাজার থেকে প্যাকেটজাত গুঁড়ো না কিনে গোটা দারুচিনি কেনা ভালো। বাড়িতে গুঁড়ো করলেও তা অনেকটা একসঙ্গে করে রাখা ঠিক নয়, কারণ বেশিদিন থাকলে এর কার্যকারিতা কমে যায়।

