দুর্গাপুর: কথায় আছে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনও বাধাই বাধা নয়। সেই প্রবাদকেই সত্যি করে দেখাল দুর্গাপুরের অন্ডাল ব্লকের আড়া এলাকার এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। সাপের কামড় নিয়েও পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার এই ঘটনা রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে এলাকায়।
দুর্ঘটনা ও ছাত্রীর সাহস
দুর্গাপুরের গোপালপুর গার্লস স্কুলের ছাত্রী বর্ষা বাগদির সোমবার ছিল মাধ্যমিকের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকালে বর্ষার পায়ে একটি সাপ কামড়ায়। বিষধর সাপের কামড়ের ভয় থাকলেও পরীক্ষার গুরুত্ব বুঝে বর্ষা কাওকে কিছু না জানিয়েই সাহস করে নিজের পরীক্ষা কেন্দ্র গোপালপুর হাইস্কুলে চলে যায়।
পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থতা
পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই শরীরে বিষের প্রভাব পড়তে শুরু করে। বর্ষা তীব্র অসুস্থতা অনুভব করলে বিষয়টি নজরে আসে দায়িত্বরত শিক্ষকদের। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে। প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে তড়িঘড়ি দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালের বেডেই চলল পরীক্ষা
ছাত্রীর এই জেদ দেখে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী, হাসপাতালের বেডেই পুলিশি পাহারায় বর্ষার পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। হাতে চ্যানেল করা থাকলেও অদম্য মানসিকতা নিয়ে পরীক্ষা শেষ করে সে।
বর্তমান পরিস্থিতি
কোন সাপ কামড়েছে তা এখনও স্পষ্ট না হলেও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্ষার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের একটি দল তাকে কড়া পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। সময়মতো চিকিৎসা শুরু হওয়ায় বড় কোনও বিপদের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

