উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে (Assembly Election 2026) কেন্দ্র করে কলকাতার রাজনৈতিক পারদ এখন ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং কারাবাস কাটিয়ে জামিনে মুক্ত হতেই রাকেশ সিংকে (Rakesh Sing) এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রার্থী করল পদ্মশিবির (BJP)। বুধবার বিজেপির ষষ্ঠ দফার প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম ঘোষণা হতেই পরিষ্কার হয়ে গেল যে, এই কেন্দ্রে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী তথা তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) বিরুদ্ধে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হওয়ার পর মুহূর্ত থেকেই পূর্ণ দমে প্রচারে নেমে পড়েছেন রাকেশ সিং। বুধবার সকাল থেকেই কলকাতা বন্দরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা এবং গৃহসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ কারাবাসের পর এই লড়াকু নেতার ওপর দলের পুনরায় আস্থা জ্ঞাপন আসলে এলাকায় বিজেপির আগ্রাসী রাজনীতিরই প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, গত বছর মৌলালিতে কংগ্রেস দফতরে ভাঙচুর এবং রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) পোস্টারে কালি লেপে দেওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে রাকেশ সিংয়ের নাম উঠে এসেছিল। সেই সময় বেশ কিছুদিন নিখোঁজ থাকার পর সেপ্টেম্বরে ট্যাংরা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অস্ত্র আইনসহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা থাকায় দীর্ঘদিন তাঁকে গারদের ওপারে কাটাতে হয়েছে। তবে সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পরপরই তাঁকে সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে নামিয়ে দিল দল।
ফিরহাদ হাকিমের মতো পোড়খাওয়া রাজনীতিকের বিপরীতে রাকেশ সিংয়ের মতো পরিচিত ও লড়াকু মুখকে দাঁড় করিয়ে বিজেপি আসলে এই কেন্দ্রে এক হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের পটভূমি তৈরি করল। বন্দর এলাকার অলিগলিতে এখন একটাই প্রশ্ন ফিরহাদ হাকিমের অভিজ্ঞতার কাছে রাকেশের লড়াকু ভাবমূর্তি কতটা প্রভাব ফেলবে? আপাতত প্রচার আর জনসংযোগের মধ্য দিয়ে সেই লড়াইয়ের জমি শক্ত করতে মরিয়া বিজেপি প্রার্থী।

