উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (WB Election 2026) দামামা বাজতেই আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ। আগামী বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। সেই লক্ষ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় বাস অধিগ্রহণ চললেও, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে বিপুল সংখ্যক বেসরকারি বাস (Transport Crisis) নির্বাচনী কাজে নিয়ে নেওয়ায় রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত পঙ্গু হওয়ার মুখে। নির্বাচন ও ভোটগণনা মিলিয়ে আগামী ৬ মে পর্যন্ত এই ভোগান্তি চলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার ১৫২টি কেন্দ্রের জন্য মঙ্গলবার থেকেই বিপুল পরিমাণ বাসকে নির্বাচনী ডিউটিতে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। ফলে এদিন থেকেই রাস্তা থেকে উধাও হতে শুরু করেছে বেসরকারি বাস।


সঙ্কটের এখানেই শেষ নয়। ২৯ এপ্রিলের ভোটের জন্য ফের ২৬ এপ্রিল থেকে বাস অধিগ্রহণ শুরু হবে। ৪ মে ভোটগণনা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যাতায়াত মিলিয়ে আগামী ৬ মে-র আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। টানা কয়েক সপ্তাহের এই ধারাবাহিক বাস সংকটে কলকাতা ও জেলাগুলিতে নিত্যযাত্রীদের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে।
ভোটের কাজে বাস চলে যাওয়ায় বাসস্ট্যান্ডগুলিতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।অটো, টোটো বা অ্যাপ-ক্যাবগুলোতে উপচে পড়া ভিড় ও অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ বাড়ছে। অফিসযাত্রী ও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষদের যাতায়াতের সময় অনেক বেড়ে গিয়েছে।
বাস সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী বাস সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক। সাধারণ মানুষের এই অনিবার্য অসুবিধার জন্য তারা দুঃখপ্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, পরিবহণ দফতরের দাবি— নিত্যযাত্রীদের সুবিধার্থে বিকল্প সরকারি বাসের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি বাসের ঘাটতি মেটানো সরকারি বাসের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তাই আগামী কয়েকদিন হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে রাস্তায় বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

