উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পরেও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বকেয়া ডিএ (DA Arrear West Bengal) মেটানো সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও অতিরিক্ত সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতে নতুন করে আবেদন দাখিল করেছে রাজ্য। নবান্নের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার প্রথম কিস্তি মেটানো বাস্তব পরিস্থিতিতে কার্যত অসম্ভব।
রাজ্যের আবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের বকেয়া ডিএ দাবিদার সরকারি কর্মীর সংখ্যা ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৯৫৪ জন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতনের নথি কেবল ২০১৬ সাল থেকে সংরক্ষিত রয়েছে। তার আগের তথ্যের জন্য কয়েক লক্ষ কর্মীর হাতে লেখা ‘সার্ভিস বুক’ পরীক্ষা করতে হবে, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। এছাড়াও, পেনশনভোগীদের তথ্য রাজ্যের কাছে না থেকে সিএজি (CAG) দফতরে থাকায় তা সংগ্রহ করতেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
আদালতে রাজ্য আরও জানিয়েছে, বকেয়া মেটানোর বিষয়টি রাজ্য বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে এত কম সময়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করা সম্ভব নয়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ এরিয়ার-সহ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এবং বাকি ৭৫ শতাংশ ৩১ মার্চের মধ্যে মেটাতে হবে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। এর আগে নবান্নে স্মারকলিপি জমা দিতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। এবার রাজ্য ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় বকেয়া ডিএ প্রাপ্তি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও জল্পনা তৈরি হয়েছে সরকারি কর্মচারী মহলে।

