উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলেছে (West Bengal political change)। প্রশাসনের অলিন্দে এখন পরিবর্তনের হওয়া, কিন্তু সেই হাওয়ায় গা ভাসিয়ে তৃণমূল থেকে দলে দলে বিজেপিতে যোগদানের যে হিড়িক পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তাতে আপাতত তালা ঝোলালেন বিজেপি নেতৃত্ব (BJP joining ban)। দলের নিচুতলা পর্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে— আপাতত অন্য দল থেকে আসা কোনও নেতা বা কর্মীকে বিজেপিতে গ্রহণ করা যাবে না।
কেন এই ‘অবরোধ’? বিজেপির নয়া কৌশল


নির্বাচনের ফল বলছে, বিজেপি ২০০-র বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনরোষকে হাতিয়ার করেই এই জয়। এখন যদি সেই অভিযুক্ত নেতারাই রাতারাতি গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়ে ‘নতুন শাসক’ সেজে বসেন, তবে জনমানসে বিজেপির ভাবমূর্তি ধাক্কা খাবে। এই ‘বেনোজল’ রুখতেই আপাতত যোগদানে জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, “সংগঠনের প্রতিটি স্তরে বার্তা দেওয়া হয়েছে, যোগদান একদম বন্ধ।” অন্যদিকে সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
পাল্টা সুর মমতার গলায়
এদিকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন ভিন্ন কথা। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের বহু নেতাকে ভয় দেখিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে বিজেপিতে টানার চেষ্টা চলছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “নিরাপত্তার খাতিরে কেউ যেতে চাইলে আমি বাধা দেব না।” তবে বিজেপি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানাচ্ছে, তারা স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
অফিস দখল রুখতে কঠোর হুঁশিয়ারি
জেলায় জেলায় তৃণমূলের অফিস ভাঙচুর বা গেরুয়া পতাকা তোলার খবর আসতেই সতর্ক হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্যের দলীয় কার্যালয় দখল করে সেখানে নিজেদের পতাকা তোলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের কাজে কেউ লিপ্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

