উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ বিহারে এসআইআর নিয়ে আগেই মামলা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। পড়ে একই ইস্যুতে শীর্ষ আদালতে মামলা করে তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক রাজনৈতিক দল। মঙ্গলবার সবকটি মামলা একসঙ্গে শুনেছে শীর্ষ আদালত। এদিন নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে সেই নোটিশ জারি করার সময় মামলাকারীদের উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মামলাকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘এসআইআর নিয়ে আপনারা কেন এত ভয় পাচ্ছেন?’’
তামিলনাড়ুতে এসআইআর তথা বিশেষ নিবিড় সমীক্ষাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে শাসক দল ডিএমকে, সিপিআইএম এবং কংগ্রেস। আর পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরকে চ্যালেঞ্জ করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে ডিএমকের হয়ে সওয়াল করেছেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। আদালতে তিনি বলেন, মারাত্মক তাড়াহুড়ো করে এবার এসআইআর করা হচ্ছে। অতীতে ভোটার তালিকা সংশোধন করতে বছরতিনকে মতো লাগত। অথচ এখন এক মাসেই সেই কাজটা সেরে ফেলতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। আর তার ফলে শেষপর্যন্ত লক্ষলক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়বে ভোটার তালিকা থেকে।
সেই সওয়ালের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ‘প্রতিটি রিট পিটিশনের ক্ষেত্রে আমরা নোটিশ জারি করছি।’ শুনানির শেষে মামলাকারীদের উদ্দেশে বিচারপতি কান্ত বলেন, “আমরা নোটিস পাঠাচ্ছি। আপনারা হলফনামা দাখিল করুন। যদি সেই হলফনামায় সন্তুষ্ট হই তাহলে প্রক্রিয়া বাতিল করব। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, এই সংক্রান্ত কোনও মামলার শুনানি হাই কোর্টে করা যাবে না। কারও কিছু বলার থাকলে বলতে হবে সুপ্রিম কোর্টে।” বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “বিভিন্ন রাজ্যের পরিস্থিতি ভিন্ন। সেটা কমিশনকে বুঝতে হবে। আশা করি কমিশন এ নিয়ে জবাব দেবে।”
উল্লেখ্য, প্রথম দফায় বিহারে এসআইআরের পরে দ্বিতীয় দফায় ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভোটার তালিকায় নিবিড় সমীক্ষা চালু করেছে কমিশন। যে তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্য আছে। যেখানে আর কয়েক মাস পরেই বিধানসভা নির্বাচন হবে। কমিশনের সূচি অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ফর্ম বিলির কাজ চলবে। তারপর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তারপর সংশোধনের কাজ করা হবে। আর আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে।

