উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নারী সংরক্ষণ বিলের (Women’s Reservation Bill 2026) নীতিগত সমর্থনে থাকলেও তার প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল ‘ইন্ডিয়া’ জোট। বিরোধীদের অভিযোগ, নারী কোটাকে হাতিয়ার করে ‘ডিলিমিটেশন’ বা লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে আসলে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাইছে বিজেপি। বুধবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে এক বৈঠকের পর বিরোধীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সংসদে এই বিলের বিরোধিতায় তাঁরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়বেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে নারী সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রয়োজন। কিন্তু এই আসন বিন্যাসের ভিত্তি হবে ২০১১ সালের জনগণনা (2011 Census Data)। বিরোধীদের আশঙ্কা, উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সেখানে আসন বাড়বে, কিন্তু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণ (Southern States Concerns) ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি সংসদের প্রতিনিধিত্বে পিছিয়ে পড়বে। রাহুল গান্ধী একে সরাসরি ‘হিসসা চুরি’ (অংশীদারিত্ব চুরি) বলে তোপ দেগেছেন।


সংবিধানের ৩৬৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই বিল পাশ করাতে গেলে সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন ((Constitution Amendment Bill) । লোকসভায় এই ম্যাজিক ফিগার প্রায় ৩৬০, যেখানে শাসক শিবিরের হাতে রয়েছে ২৯৩টি আসন। রাজ্যসভাতেও এনডিএ সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে ২১টি আসন পিছিয়ে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল, ডিএমকে, আরজেডি-র মতো দলগুলোর পাশাপাশি নবীন পট্টনায়কের বিজেডি এবং কেসিআর-এর বিআরএস-ও এবার সরকারের পাশ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। ফলে বিনা লড়াইয়ে এই বিল পাশ করানো মোদী সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।

