কিশনগঞ্জঃ মাত্র ৫০ হাজার টাকায় নারী পাচারকারীদের হাতে নিজের সাত বছরের মেয়েকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল মায়ের বিরুদ্ধে। এমনই ঘটনা ঘটেছে বিহারের আরারিয়ার রানীগঞ্জ থানা এলাকার ছাতিয়ানা গ্রামে। বিক্রির চার ঘন্টার মধ্যেই মেয়েটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হয়েছে মা সহ চার মানব পাচারকারী। উদ্ধার হওয়া মেয়েটিকে পাঠানো হয়েছে হোমে।
জানা গিয়েছে, মাত্র ৫০ হাজার টাকার লোভে নিজের ৭ বছরের মেয়েকে পাচারকারীদের হাতে বিক্রি করে দেয় মা কুনিয়া খাতুন। পাচারকারীদের পরিকল্পনা ছিল মেয়েটিকে নিষিদ্ধপল্লীতে বিক্রি করে দেওয়া। কিন্তু বিক্রি করে টাকা নিয়েই পুলিশের দ্বারস্থ হন মেয়েটির মা। পুলিশের কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ করেন অপহরণের। পুলিশকে কুনিয়া খাতুন জানান, রানীগঞ্জ বাজারে মেয়েকে নিয়ে সবজি কিনতে গিয়েছিলেন তিনি। বেলা এগারোটা নাগাদ কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতী মেয়েকে জোর করে কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এই অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্তে নামে রানীগঞ্জ থানার পুলিশ। অভিযোগ দায়েরের চার ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ পাচারকারীদের পাকড়াও করে। তাদের হেপাজত থেকে উদ্ধার হয় কিশোরী। গ্রেপ্তার করা হয় মধেপুরার বাসিন্দা দম্পতি মহম্মদ শাহরুল ও জাহানারা খাতুন, মুম্বইয়ের বাসিন্দা শাহ মজহরকে। পুলিশ এদের প্রতাপগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে।


এরপর ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, উদ্ধার হওয়া কিশোরীর মা কুনিয়া খাতুন ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে তাঁদের কাছে। এরপরই কুনিয়াকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার অমিত রঞ্জন জানান, উদ্ধার হওয়া মেয়েটিকে মুম্বইয়ের নিষিদ্ধপল্লীতে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল পাচারকারীদের। মঙ্গলবার ধৃতদের তোলা হয় আরারিয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

