তুফানগঞ্জ ও দিনহাটা: বুধবার কোথাও ঘোড়ার গাড়ি চেপে, তো কোথাও নৌকায় করে ভোট নিতে গেলেন নির্বাচন কর্মীরা। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ১৩ এপ্রিল থেকে ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ১৫ এপ্রিল ছিল তার শেষ দিন। এদিন দুই অভিনব দৃশ্য ধরা পড়ল তুফানগঞ্জ ও দিনহাটায়। ঘোড়ার গাড়ি চেপে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা দুর্গম চর বালাভূত গ্রামে পৌঁছালেন নির্বাচনি আধিকারিকরা। অন্যদিকে, এদিন বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা দিনহাটা-১ ব্লকের গিতালদহ-২ জারিধরলা গ্রামেও নৌকায় করে দীর্ঘ ধরলা নদী পেরিয়ে পৌঁছান ভোটকর্মীরা।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের প্রত্যন্ত দুর্গম চর বালাভূত গ্রাম। সম্প্রতি বিদ্যুৎ পৌঁছেছে সেই গ্রামে। বালাভূত বিএসএফ ক্যাম্পের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে রায়ডাক, তিস্তা, তোর্ষা, কালজানি ও গঙ্গাধর নদী। সেই নদীর ওপারে চর বালাভূত গ্রাম। সেখানে কাঁটাতারের বেড়া নেই। তাই সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার আগেই নদীর এপারে বিএসএফের কড়া নজরদারি। সারাবছর নির্দিষ্ট সময়ে নৌকায় চলে নদী পারাপার। এরপর দীর্ঘ কাঁচা রাস্তা পেরিয়েই চর বালাভূত। সেখানে দুটি বুথ মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার পরিবারের বসবাস।


এমন পরিস্থিতিতে দুর্গম এলাকার প্রবীণ ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা ঘোড়ার গাড়িতে করে গ্রামে পৌঁছান। এবিষয়ে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিক বলেন, ‘প্রত্যন্ত এলাকাতেও যেন কোনও ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রায় ২০ জন প্রবীণ ভোটারের ভোট সংগ্রহ করা হল আজ। সবরকম প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আমরা ভোটারদের কাছে পৌঁছেছি।’
এদিন গ্রামের এক প্রবীণ ভোটার দিলবার মিয়াঁ বলেন, ‘এই বয়সে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া সম্ভব নয়। বাড়িতে এসে ভোট নেওয়ায় আমরা খুবই খুশি।’ দুর্গম এলাকায় নির্বাচন কমিশনের কর্মীদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
একইভাবে নৌকায় করে দিনহাটার জারিধরলা গ্রামে পৌঁছান ভোটকর্মীরা। ৬/২৮১, ৬/২৮২ নম্বর বুথের ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ বাসিন্দাদের ভোটগ্রহণ হয়। দিনহাটার অন্যতম দ্বীপ গ্রাম বলে পরিচিত এই জারিধরলা। গ্রামের চারিদিক দিয়েই বয়ে গিয়েছে ধরলা নদী। গ্রামের একেবারে পাশে রয়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশ। দিনহাটার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য গ্রামের বাসিন্দাদের ভরসা একমাত্র নৌকা। শহরের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ করতে হলে প্রায় ১৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। এদিন সেই দুর্গম গ্রামেই নৌকা নিয়ে পৌঁছান ভোটকর্মীরা। এবিষয়ে ভোটকর্মী সামাদুল শেখ বললেন, ‘বুধবার মোট পাঁচজনের ভোটগ্রহণ করা হয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ ভোটারের বক্তব্য, ‘এটা অত্যন্ত ভালো একটি উদ্যোগ। আমাদের মতো প্রবীণ বাসিন্দাদের বুথে পৌঁছে ভোট দেওয়া খুবই অসুবিধের। সেক্ষেত্রে এভাবে দুর্গম এলাকাতেও এসে ভোট নেওয়ায় আমরা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারলাম।’ এবিষয়ে দিনহাটার মহকুমা শাসক ভরত সিংকে ফোন করা হলে তিনি ফোন না ধরায় তাঁর প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

