উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: একুশের নির্বাচনে গেমচেঞ্জার ছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। চব্বিশ পেরিয়ে ছাব্বিশের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ফের কি ভাতার রাজনীতিতেই বাজিমাত করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? রাজ্য বাজেটে ঘোষিত ‘যুবসাথী’ (Yuvasathi Scheme West Bengal) প্রকল্প চালু হতেই রাজ্যজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রবিবার ছুটির দিনেও কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি— সরকারি ক্যাম্পগুলিতে উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করছে, ভোটের আগে ফের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিয়েছে নবান্ন। কিন্তু সেই ভিড়ের জৌলুসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাংলার কর্মসংস্থানের ‘বিবর্ণ’ ছবিটাও যেন এদিন প্রকট হয়ে উঠল।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ছায়া নাকি নতুন কৌশল?
বাজেট ঘোষণার পরেই তড়িঘড়ি এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে হেঁটেছে রাজ্য। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের জন্য মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা বা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়াদ ৫ বছর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে বেকারদের হাতে নগদ টাকা পৌঁছে দিয়ে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ প্রশমনই শাসকদলের লক্ষ্য। রবিবার থেকেই ফর্ম তোলা ও জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। সরকারের লক্ষ্য, নির্বাচনী আচরণবিধি চালুর আগেই অন্তত এক কিস্তির টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া।
ভাতার লাইনে উচ্চশিক্ষিতদের হাহাকার
তবে এই প্রকল্পের সাফল্যের থেকেও বেশি চর্চায় উঠে এসেছে লাইনে দাঁড়ানো মুখগুলো। এমএ, এমএসসি, এমনকী বিটেক ডিগ্রিধারীরাও ১৫০০ টাকার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে। তাঁদের অনেকেরই বক্তব্য, “চাকরি নেই, তাই এই সামান্য টাকাই এখন ভরসা।” এই দৃশ্যই বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কটাক্ষ, “রাজ্যে শিল্প নেই, মেধা অনুযায়ী কাজ নেই। তাই ভাতার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে সরকারকে।’
কী বলছে শাসকদল?
বিরোধীদের সমালোচনা উড়িয়ে তৃণমূলের দাবি, সরকার মানুষের পাশে আছে। নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja) বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যুবসমাজের পালস বোঝেন। ক্যাম্পে মানুষের ঢল প্রমাণ করছে এই প্রকল্প সুপারহিট।” অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের যুক্তি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে যারা ব্যঙ্গ করেছিল, তারাই এখন ক্ষমতায় এলে বেশি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ভোটের বাক্সে ‘যুবসাথী’ কতটা প্রভাব ফেলবে তা সময় বলবে। তবে রাজ্যের শিক্ষিত বেকাররা যে ‘ভাতা’র চেয়ে ‘কাজ’কে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন, লাইনে দাঁড়ানো ক্লান্ত মুখগুলো সেই বার্তাই দিচ্ছে নিঃশব্দে।

