Wednesday, April 24, 2024
HomeExclusiveJalpaiguri storm | ঝড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত জমিদারবাড়ি, সব হারিয়ে নিঃস্ব ‘রায়বাড়ি’র সদস্যরা

Jalpaiguri storm | ঝড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত জমিদারবাড়ি, সব হারিয়ে নিঃস্ব ‘রায়বাড়ি’র সদস্যরা

অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি: ঠাকুরদা ছিলেন এলাকার জমিদার। জমিদারির অবসান হলেও ‘রায়বাড়ি’র পরিচয় ছিল জমিদারবাড়ি হিসেবেই। রবিবারের ঝড়ে (Jalpaiguri storm) সেই বাড়ি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। সব হারিয়ে নিঃস্ব অবস্থা গোটা পরিবারের। আঘাত নিয়ে এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন পরিবারের সাত সদস্য। বাড়ির সবথেকে কনিষ্ঠ সদস্যা পিহু রায় গুরুতর আঘাত নিয়ে শিলিগুড়ির (Siliguri) একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি।

ময়নাগুড়ির (Maynaguri) বার্নিশ গ্রাম পঞ্চায়েতের সর্দারবাড়ি এলাকার মেঠোপথ ধরে কিছুটা গেলেই শাল, সেগুন, শিমুলঘেরা রায়বাড়ি। সেখানে যৌথভাবেই বসবাস করতেন এলাকার এক সময়ের জমিদার কৃষ্ণমোহন রায়ের নাতি-নাতনিরা। বাড়ির উত্তরদিকে ছিল বিশাল তালপুকুর। সেখানে জলকেলি করত হাঁসের দল। আর চারদিকে নারকেল, সুপারি গাছের সারি। দক্ষিণে পাকা ঠাকুরদালান। সেখানে প্রতিবছর নিয়ম করে ঢাকঢোল পিটিয়ে দক্ষিণাকালীর পুজো হত। বাড়িতে প্রবেশের জন্য ছিল সিংহদুয়ার।

রবিবারের ঝড়ে গোটা বাড়ির চিত্রটাই বদলে গিয়েছে। পরিবারের সদস্যরাও নিজেদের বাড়ি ঠিকমতো চিনতে পারছেন না। বাড়িটির মোট ১১টি ঘর ছিল। এখন সেগুলির চিহ্নমাত্র নেই। হাতে গোনা কয়েকটি নারকেল গাছ ছাড়া সমস্ত গাছ সমূলে উপড়ে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পরে পুকুরের সব জল আশ্চর্যজনকভাবে শুকিয়ে গিয়েছে। পুকুরের মাছ, হাঁস, মুরগি সবকিছুর মৃত্যু হয়েছে। ঠাকুরদালানের সমস্ত পিলার ভেঙে পড়ে রয়েছে। উঠোনে দুটি মোটর সাইকেল ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে।

মঙ্গলবার জমিদারবাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে অঝোরে কেঁদে চলেছেন জমিদারের দুই নাতি বিপ্লব রায় ও অপূর্ব রায়। ঝড়ের তাণ্ডবে পরিবারের এই দুজন সদস্যরই কেবল আঘাত লাগেনি। বিপ্লব বলেন, ‘ঝড়ের সময় অন্যত্র ছিলাম। সেকারণে প্রাণে বেঁচে যাই। কিন্তু বাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত। স্ত্রী, সন্তান সহ পরিবারের সাতজন সদস্য এখনও হাসপাতালে। প্রশাসনের সাহায্য ছাড়া ঘুড়ে দাঁড়ানো অসম্ভব।’ অপূর্বর কথায়, ‘একসময় আমাদের বংশের জমিদারি থাকলেও বেশ কয়েকবছর থেকে সংসারে অনটন। পরিবারের চার সদস্য ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করে। ঝড়ের জন্য গোটা পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেল।’

এদিন সকালে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি পরিদর্শন করেন জলপাইগুড়ির ডিএসপি ক্রাইম রুদ্রনারায়ণ সাউ। এরপর পুলিশের তরফে তাঁদের কাছে কিছু শুকনো খাবার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রায় পরিবারের আত্মীয় বাপ্পা রায় জানান, খাবারের পাশাপাশি রায়বাড়িতে এখন পানীয় জলেরও অভাব রয়েছে।

Sushmita Ghosh
Sushmita Ghoshhttps://uttarbangasambad.com/
Sushmita Ghosh is working as Sub Editor Since 2018. Presently she is attached with Uttarbanga Sambad Digital. She is involved in Copy Editing, Uploading in website and various social media platforms.
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
- Advertisment -spot_img

LATEST POSTS

Cooch Behar | সময় লেগে যায় এক বছর, কোচবিহারে আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা

0
শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার: গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। কাঠফাটা রোদে স্বস্তি পেতে অনেকেই রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া আখের রসে গলা ভেজাচ্ছেন। চাহিদার তুলনায় কম হলেও কিছু...

Nandigram | নন্দীগ্রামে দেবাংশুকে দেখেই ‘চোর-চোর’ স্লোগান, প্রচারে বাধা পেয়ে এলাকা ছাড়লেন তৃণমূল প্রার্থী...

0
উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশুকে লক্ষ্য করে 'চোর চোর' স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম। অভিযোগ, এদিন সকালে নন্দীগ্রামে প্রচারে গেলে দেবাংশু ও...
'Bharti' has been closed during Covid, and there are no cinema halls in Mainaguri

Maynaguri | কোভিডকালে বন্ধ হয়েছে ‘ভারতী’, আর সিনেমা হলই নেই ময়নাগুড়িতে

0
বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: পাঁচ থেকে ছয় বছর টানা দর্শকের অভাবে ধুঁকছিলই। দিনরাতের তিনটে শো চলত না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুটো শো বন্ধ করে দিতে হত।...

জাতীয় রেফারি হিসেবে স্বীকৃতি ধূপগুড়ির মালতীর

0
ধূপগুড়ি: সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন আয়োজিত লেভেল ফাইভ পরীক্ষায় সফল হয়ে রাজ্যের একমাত্র মহিলা হিসেবে এবারে জাতীয় স্তরের সহকারী রেফারি হলেন ধূপগুড়ির মালতী রায়। গত...

Betting App | বাড়ছে অনলাইন গেমিংয়ে আসক্তি, বেটিং অ্যাপের নেশায় বুঁদ স্কুল পড়ুয়ারাও

0
জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) কদমতলা মোড় থেকে তিন বন্ধু কেরানিপাড়ার দিকে যাচ্ছিল। দুজন সাইকেলে ও একজন হেঁটে। দেখে সম্ভ্রান্ত পরিবারের মনে হল। তাদের মধ্যে চলছিল...

Most Popular