বৃহস্পতিবার, জুলাই ২০, ২০১৭


Find us on

মোর্চার আন্দোলনে রণক্ষেত্র দার্জিলিং, সেনা তলব

দার্জিলিং, ৮ জুনঃ মোর্চার অনশনকে ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দার্জিলিং। পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সেনাবাহিনীকে তলব করা হয়েছে। দুপুর দুটো নাগাদ গোর্খা রঙ্গমঞ্চের সামনে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু করে মোর্চা সমর্থকরা। পরপর বোমা পড়তে থাকে। ভানুভবনের সামনে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ পালটা লাঠি চালালে পরিস্থিতি আরো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বেধড়ক লাঠি চালিয়ে পুলিশ উন্মত্ত মোর্চা সমর্থকদের কিছুটা হটিয়ে দেয়। কিন্তু মোর্চা সমর্থকরা বেপরোয়াভাবে বোমা ছুড়তে থাকায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে থাকে। আরো ৪টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় মোর্চা সমর্থকেরা। ভানুভবনের সামনে পুলিশের একটি আউটপোস্ট জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। গন্ডোগল ছড়িয়ে পড়ে জিমখানা ক্লাব এলাকাতেও। শূন্যে গুলি ছোড়ে পুলিশ।

সুভাস ঘিসিংয়ের গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের পর এভাবে পাহাড়কে অগ্নিগর্ভ হতে দেখা যায়নি। প্রায় দু-দশক ধরে পাহাড় জঙ্গি আন্দোলনের পথ ছেড়ে সংসদীয় রাজনীতিতে ফিরেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা ভাষা পাহাড়ে বাধ্যতামুলক না করার দাবি নিয়ে যেভাবে অগ্নিগর্ভ হয়েছে পাহাড় তার পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই।

প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মুহূর্তে পাহাড়ে থাকা ১০ হাজার পর্যটকের নিরাপত্তার বিষয়টি। শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়ে একটি গাড়িও ওঠানামা করছে না। ফলে এদিন থেকেই আটকে পড়েছেন ওই পর্যটকরা। আগামীকাল ১২ ঘন্টার জন্য পাহাড় বন্‌঩ধের ডাক দিয়েছে মোর্চা। এই পরিস্থিতিতে আগামীকাল পাহাড় থেকে মুখ্যমন্ত্রী নাও নামতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর বলেন, ‘ধ্বংসের রাজনীতি করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনায় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’